এই গাইডে যা পাবেন
- B-2 ভিসা কী এবং কতদিনের জন্য দেওয়া হয়
- আবেদনের ধাপ — DS-160 থেকে interview পর্যন্ত
- রিজেক্ট হওয়ার ৫ প্রধান কারণ
- কোন কোন ডকুমেন্ট নিয়ে যাবেন
- Affidavit of Support কীভাবে লিখবেন
- রিজেক্ট হলে পরবর্তী পদক্ষেপ
- I-94 বনাম ভিসা মেয়াদ — বড় ভুল এড়ানো
B-2 ভিসা কী?
B-2 হলো আমেরিকার Tourist/Visitor ভিসা। এটি সাধারণত multiple entry এবং ১০ বছর মেয়াদী হয়ে থাকে। তবে প্রতিটি visit-এ সাধারণত ৬ মাস পর্যন্ত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। B-2 ভিসায় কাজ করা বা পড়াশোনা করা যায় না — শুধু পরিবার দেখতে আসা, ঘুরতে আসা বা চিকিৎসার জন্য আসা যায়।
- ভিসার মেয়াদ: সাধারণত ১০ বছর (তবে CBP entry তে I-94 নির্ধারণ করে)
- থাকার মেয়াদ: সাধারণত ৬ মাস (I-94 অনুযায়ী)
- কাজ করা যাবে না
- আবেদন ফর্ম: DS-160 (অনলাইন)
- ভিসা ফি: $185 (non-refundable)
আবেদনের ধাপ
- DS-160 পূরণ করুন — ceac.state.gov এ গিয়ে DS-160 form অনলাইনে পূরণ করুন। সব তথ্য সঠিক ও সৎভাবে দিন। ফর্ম জমা দেওয়ার পর একটি confirmation page print করুন।
- ভিসা ফি জমা দিন — $185 MRV fee জমা দিন এবং receipt রাখুন।
- Appointment নিন — ঢাকার US Embassy website (bd.usembassy.gov) থেকে interview appointment নিন। অ্যাপয়েন্টমেন্টের অপেক্ষার সময় মৌসুম অনুযায়ী কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস হতে পারে।
- Interview-এর জন্য যান — নির্ধারিত দিনে সব ডকুমেন্ট নিয়ে Embassy যান। সাধারণত Interview ৫–১৫ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়।
- Passport জমা ও সংগ্রহ — ভিসা অনুমোদন হলে passport নির্ধারিত ডেলিভারি পয়েন্ট থেকে সংগ্রহ করুন।
Interview-এ কী জিজ্ঞেস করা হয়?
Consular Officer সাধারণত এই ধরনের প্রশ্ন করেন:
- আমেরিকায় কেন যেতে চান?
- কতদিন থাকবেন?
- বাংলাদেশে কী করেন (চাকরি/ব্যবসা)?
- আপনার সন্তান আমেরিকায় কী করেন?
- বাংলাদেশে আপনার কী সম্পত্তি আছে?
- আগে কি আমেরিকা বা অন্য দেশে গেছেন?
রিজেক্ট হওয়ার ৫ প্রধান কারণ
কারণ ১: বাংলাদেশে যথেষ্ট "টান" (Ties) নেই
সবচেয়ে বড় কারণ। Consular Officer দেখতে চান আপনার বাংলাদেশে এমন কিছু আছে কিনা যার কারণে আপনি অবশ্যই ফিরবেন — যেমন নিজস্ব বাড়ি/জমি, চাকরি বা ব্যবসা, অন্য সন্তান বা পরিবার, পেনশন বা নিয়মিত আয়। এই ties প্রমাণ করতে না পারলে রিজেকশনের সম্ভাবনা বেশি।
কারণ ২: আর্থিক অক্ষমতা বা অনিশ্চয়তা
নিজে বা sponsor সন্তান — কেউই যদি আর্থিক সামর্থ্য প্রমাণ করতে না পারেন, তাহলে রিজেকশন হতে পারে। আমেরিকায় আসার খরচ এবং থাকার খরচ কীভাবে মেটানো হবে সেটা স্পষ্ট করতে হবে।
কারণ ৩: ভিসা অপব্যবহারের সন্দেহ
Officer যদি মনে করেন আবেদনকারী ভিসা পেলে ফিরবেন না বা অনুমতির বাইরে থাকবেন, তাহলে Section 214(b) অনুযায়ী রিজেক্ট করা হয়। এটি বাংলাদেশ থেকে ভিসা আবেদনের সবচেয়ে সাধারণ রিজেকশন কোড।
কারণ ৪: অসম্পূর্ণ বা ভুল ডকুমেন্ট
DS-160-এ ভুল তথ্য, মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট, বা প্রয়োজনীয় কাগজ না নিয়ে যাওয়া রিজেকশনের কারণ হতে পারে।
কারণ ৫: Interview-এ ভুল বা বেমানান উত্তর
DS-160-এ যা লিখেছেন আর interview-এ যা বলেছেন যদি না মেলে, অথবা অযৌক্তিক উত্তর দেন — তাহলে রিজেকশন হতে পারে।
কোন ডকুমেন্ট নিয়ে যাবেন?
- বৈধ পাসপোর্ট (কমপক্ষে ৬ মাস মেয়াদ বাকি)
- DS-160 confirmation page
- ভিসা ফি receipt
- সম্পত্তির দলিল বা lease agreement (বাড়ি, জমি)
- ব্যাংক স্টেটমেন্ট (শেষ ৬ মাস)
- পেনশন সার্টিফিকেট বা income proof
- পরিবারের অন্য সদস্যদের তথ্য (যারা বাংলাদেশে আছেন)
- আগের ভিসার কপি (থাকলে)
- Affidavit of Support (নিজে লিখতে হবে)
- ট্যাক্স রিটার্ন (শেষ ২ বছর)
- পে-স্টাব (শেষ ৩ মাস)
- US ভিসা বা স্ট্যাটাসের কপি (H-1B approval, Green Card, Passport)
- Invitation letter
Affidavit of Support কীভাবে লিখবেন?
এটি B-2 ভিসার জন্য USCIS-এর অফিশিয়াল I-134 form হতে পারে, অথবা একটি personal letter হতে পারে। letter-এ যা থাকবে:
- আপনার পরিচয়, পেশা ও আমেরিকায় বৈধ status
- বাবা-মায়ের সফরের উদ্দেশ্য ও প্রত্যাশিত সময়কাল
- থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতের খরচ আপনি বহন করবেন এই বিবৃতি
- আপনার বার্ষিক আয় ও সম্পদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ
- বাবা-মা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে যাবেন এই প্রতিশ্রুতি
রিজেক্ট হলে কী করবেন?
214(b) রিজেকশনের কোনো formal appeal নেই। তবে আপনি পুনরায় আবেদন করতে পারেন — নতুন ফি দিয়ে। পুনরায় আবেদনের আগে:
- রিজেকশনের কারণ বুঝুন এবং সেই weakness address করুন
- নতুন বা শক্তিশালী ডকুমেন্ট সংগ্রহ করুন
- পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়েছে কিনা দেখুন (নতুন সম্পত্তি, income বৃদ্ধি)
- খুব দ্রুত পুনরায় apply না করাই ভালো — অন্তত ৩–৬ মাস অপেক্ষা করুন
ইমিগ্রেশন গাইড সিরিজ · শাধীন পথ